‘সবাইকে তার কথা মনে রাখা উচিত’: মাশরাফি

আর্টিকেল: নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুতেই দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল যখন ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে গেলেন এবং পরে জানা গেল তার এশিয়া কাপই শেষ, তখন কেইবা ভেবেছিল বড় চমক অপেক্ষা করছে তাদের সামনে। দলের প্রয়োজনে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন মাঠে নামলেন সবার চোখে অবিশ্বাসের ছায়া। দলের প্রতি তার এমন নিবেদন নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠেও আবেগের ছোঁয়া।

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের নবম উইকেটের পতনের পর বিস্ময় ছড়িয়ে মাঠে নামেন তামিম। সেসময় খোদ ধারাভাষ্যকারদের মুখেই শোনা যায় প্রশংসাবাণী।

৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে মোস্তাফিজুর রহমান রানআউট হয়ে ফিরে গেলে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে নামতে দেখা যায় দলের ওপেনার তামিমকে। সেসময় ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর ধারাভাষ্যে বলা হচ্ছিল, ‘অবিশ্বাস্য দৃশ্য! ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে ঢুকছেন তামিম, তাও মাত্র একটি হাত নিয়ে! এটা তামিম ইকবালের বিরল সাহসের নজির হয়ে থাকবে!’

অথচ চোটের কারণে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে তামিম ড্রেসিং রুমে ফেরার বেশ কিছুক্ষণ পর খবর পাওয়া যায়, টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপের ‘ভিত্তি’ তামিম চোটের কারণে একেবারে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়েছেন। এমনকি সেই খবরের পর ড্রেসিংরুমে প্লাস্টার করা বাঁ হাতে স্লিং বাঁধা অবস্থায়ও দেখা যায় তাকে। অথচ এই আঘাত নিয়েই কি-না তিনি এক হাত নিয়েই দলের জন্য নেমে যান মাঠে।

তামিম মাঠে নামার সময় দলের স্কোর ছিল ২২৯। সতীর্থকে এমন সাহস নিয়ে নামতে দেখে সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকও যেন হয়ে ওঠেন আরও দুর্দমনীয়। তামিম একপাশ আগলে রাখলেন, মুশফিক ওপাশে তুললেন ঝড়। দলের স্কোরকার্ডে যুক্ত হয় আরও মূল্যবান ৩২টি রান। বাংলাদেশের ইনিংস গিয়ে দাঁড়ায় ২৬১-তে।

নিজেদের ব্যাটিং ইনিংস শেষে তামিমের ‘দ্বিতীয় ইনিংসের’ সঙ্গী মুশফিকও বলছিলেন দলের প্রতি ওপেনারের দায়বদ্ধতার এই বিরল ও অভাবনীয় নজিরের কথা।

এক হাতে ব্যাট করে বিরল নজির গড়েছেন তামিম অনবদ্য সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হওয়া মুশফিক পুরস্কার হাতে নিয়েও তামিম প্রসঙ্গে বলেন, ‘তামিম যখন ফের ব্যাট করতে নামে, এটা আমাকে তার জন্য এবং আমার দেশের জন্য কিছু করার প্রেরণা জোগায়।’

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তার প্রিয় সতীর্থের প্রসংশায় আরও বেশি পঞ্চমুখ। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তামিম ইকবালকে নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি তামিমের জন্য যে বাক্য প্রযোজ্য তা হচ্ছে “সবাইকে তার কথা মনে রাখা উচিত”।’

মাশরাফির বক্তব্যে উঠে আসে মুশফিকের অনবদ্য সেঞ্চুরির প্রসঙ্গও। ‘মুশফিকুর এবং মিথুনকে অনেক ধন্যবাদ। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলা সবসময় চাপের বিষয়। কিন্তু তারা যেভাবে ব্যাট করেছে দেখতে খুব ভালো লেগেছে।’

তামিম-মুশফিকের প্রশংসা করলেও যেভাবে উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ তাতে মোটেই খুশি নন মাশরাফি।

‘সিনিয়ররা যেভাবে পারফর্ম করছে এটা বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। আমি মনে করি আমাদের আরও উন্নতির সুযোগ আছে। আমরা যেভাবে উইকেট হারিয়েছি, আশা করি আমরা এদিকটাতে আরও ভালো করে নজর দিব। মিথুন ভুল সময়ে আউট হয়েছে এবং সে আউট না হলে আমরা ২৮০-২৯০ রান করতে পারতাম।’

দলের ফিল্ডিং নিয়েও কিছুটা খেদ ঝরে পড়ল মাশরাফির কণ্ঠে। ‘ফিল্ডিংটা আরও ভালো হতে পারত।’

প্রসঙ্গত, ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য ও ক্যারিয়ার সেরা সেঞ্চুরি আর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়া কাপে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *