বিলুপ্ত প্রায় নীলগাই ধরল এলাকাবাসী যেভাবে

যেভাবে বিলুপ্ত প্রায় নীলগাই ধরল এলাকাবাসী ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা সীমান্তে ধাওয়া করে একটি নীলগাই ধরেছেন এলাকাবাসী। উপজেলার যদুযার এলাকায় কুলিক নদের তীরে ঘুরছিল স্থানীয়দের কাছে অপরিচিত প্রাণীটি। গতকাল মঙ্গলবার (০৪ সেপ্টেম্বর) নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আবু জাহিদ নামে একজন এটিকে দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীকে খবর দেন। পরে সবাই মিলে ধাওয়া দিয়ে পশুটিকে ধরতে সক্ষম হন।
এ সময় নীলগাইটির সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে বুধু ও মকবুল নামে দুই যুবক আহত হয়েছেন। জাহিদ নামে অপর এক যুবকের বাড়ি নিয়ে এটিকে বেঁধে রাখা হয়।

প্রাণীটিকে ধরার পর উৎসুক গ্রামবাসী এটিকে দেখতে ভিড় জমায়। আগত বয়োজ্যেষ্ঠরা হরিণ এবং গরুর মাঝামাঝি দেখতে প্রাণীটিকে নীলগাই বলে শনাক্ত করেন।
নীলগাই নিয়ে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা! কোথা থেকে এলো এটি? কি করা হবে এটিকে?মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা সময় সদর উপজেলার পটুয়া এলাকায় পথচারীরা নীলগাইটি দেখতে পায়। তারা সেটিকে ধরার চেষ্টা করলে সেটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৌঁড়ে রানীশংকৈল উপজেলার যদুয়ার কুলিক নদী পার হওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় জাহিদ, বুধু, মকবুলসহ অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী নীলগাইটিকে উদ্ধার করে।

নীলগাই নিয়ে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা! কোথা থেকে এলো এটি? কি করা হবে এটিকে?
ঠাকুরগাঁও সদর ও রানীশংকৈল উপজেলার সীমান্তে কুলিক নদী পারাপারের সময় একটি নীলগাই আটক করেছে এলাকার কয়েকজন যুবক। পরে যদুয়ার এলাকায় জাহিদের বাড়িতে রাখা হয় নীলগাইটিকে।
রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরোজা বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে নীলগাইটিকে যদুয়ার এলাকা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় উদ্যানে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নীলগাই উদ্ধারকারী জাহিদ বলেন, দ্রুতগতিতে আসা নীলগাইটি যদুয়ার এলাকায় কুলিক নদীর পানিতে পরে গেলে কয়েকজন মিলে সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে স্থানে রাখি। খবর পেলে বন বিভাগের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, রাণীশংকৈল থানা পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। নীলগাই আটককারী জাহিদের ভাই আবুবক্কর কোন অবস্থাতে নীলগাইটিকে হস্তান্তর করতে না চাইলে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরোজা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নীলগাইটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জাতীয় উদ্যানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

ঠাকুরগাও সদর উপজেলার পটুয়া ফকদনপুর এলাকার আকরাম আলী বলেন, প্রায় ৩-৪ মাস ধরে ভুট্টা ক্ষেতে নীলগাইটি ছিল। এখন ভুট্টা না থাকায় পাশের জঙ্গলে ও আখ ক্ষেতে বসবাস করছিল। জঙ্গলের পাশে ধানের ফসল নষ্ট করলে আজ কয়েজন মিলে নীলগায়টিকে ধাওয়া দিলে নীলগাইটি পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, নীলগাইটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এলাবাসীর ফসল নষ্ট করলে পাহারা দিয়ে নীলগাই চিনতে পারে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও কোনভাবেই নীলগাইটিকে আটক করতে পারেনি এলাকাবাসী।
ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নীলগাইটি দিনাজপুর জাতীয় উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে নীলগাইটিকে রাখা হয়েছে। নীলগাইটির যেন কোন প্রকার সমস্যা না হয়, সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

ঠাকুরাগাঁও জেলা প্রশাসক আখতারুজ্জামান বলেন, নীলগাইটি এলাকাবাসী আটক করার সময় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় উদ্ধারকৃত নীলগায়টি চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর জাতীয় উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। নীলগাইটি সুস্থ্য হলে কোথায় পাঠালে ভালো হয়, তা বন বিভাগের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *