বদরগঞ্জে গৃহবধু হত্যা: রক্ষা পেল না পেটের শিশুও

স্থানীয় আর্টিকেল: রংপুরের বদরগঞ্জে মাধবী রানী দাস (২১) নামে তিনমাসের এক অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর বাবা মানিক দাস বাদী হয়ে ৭জনকে আসামী করে বদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পৌরশহরের বালুয়াভাটা এলাকার নেহার স্কুল পাড়ায় এঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কলেজপাড়ার মানিক দাসের মেয়ে মাধবী রানী দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় বদরগঞ্জ পৌরশহরের বালুয়াভাটা এলাকার নেহার স্কুল পাড়ার খিতিশ চন্দ্র দাসের ছেলে খোকন দাসের। বিয়ের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই কাটছিল।

এসময় তাদের ঘরে জন্ম নেয় পুত্র দেবদাস (৩)। এরপর খোকন দাস মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। একারণে সে নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করত। স্ত্রী মাধবী দাস বদরগঞ্জ থানায় স্বামী খোকন দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ অভিযোগটি আমলে না নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিমাংসা করে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। বর্তমানে মাধবী দাস তিন মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত চার দিন আগে মা ভারতী রানী দাস মেয়ে মাধবী রানী দাসকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে জামাই’র বাড়িতে আসেন। কিন্তু শাশুড়ি কর্তৃক মেয়েকে নেওয়া তো দূরের কথা মাদকাসক্ত জামাই শাশুড়িকে বাড়িতেই ঢুকতে দেয়নি। ফলে দু’দিন পাশের বাড়িতে অবস্থান করার পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে মেয়েকে ছাড়াই নিজ বাড়িতে ফিরে যান ভারতী রানী দাস।

ঘটনারদিন খোকন দাস বাড়ীতে ফিরে স্ত্রী মাধবী দাসকে বেধম মারধর করে। এক পর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে লাশ বদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করলে লাশ ফেলে স্বামী খোকন দাসসহ অন্যারা পালিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মুস্তারিন জাহান মওলা বলেন, মৃত অবস্থায় মাধবীকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে অভিযুক্ত বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *