ওজনে কেনাবেচা হচ্ছে কোরবানির পশু

আর্টিকেল: নারায়ণগঞ্জে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কোরবানির পশু ওজনে কেনাবেচা। নেই হাটে যাওয়ার বাড়তি ঝামেলা। সহজেই খামার থেকে পশু কিনছেন ক্রেতারা। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও ওজনে পশু কেনাবেচায় কোনো বিধিনিষেধ নেই বলেও জানিয়েছেন আলেমরা।

অন্য বছরের মত এবারও কোরবানির পশু ওজনের কেনাবেচা চলছে নারায়ণগঞ্জে। আগের বছর এই পদ্ধতিতে কয়েকটি খামার থেকে পশু কিনে ছিলেন ক্রেতারা। জনপ্রিয়তা বাড়ায় খামারের সংখ্যা বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জের শহরে গেলে দেখা যাবে এমন অনেক খামার।

ক্রেতারা বলছেন, হাটে গিয়ে পছন্দ মতো গরু কিনতে থাকে নানা ধকল। দরদাম নিয়েও বাক বিতর্কে যেতে হয়। তবে খামারে ওজনে পশু কেনাবেচায় সেই ঝামেলা নেই বলে দাবি করছেন সবাই।

ক্রেতারা বলছেন, আগে কখনো দেখিনি যে ওজনে পশু বিক্রি করা হয়। এবারই প্রথম ওজনে পশু কিনছি। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এখানে পশুগুলোতে কোনো ধরণের কৃত্রিমতা নেই।

৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু। আর বড় গরু কেনাবেচা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। ক্রেতারা বলছেন, এতে বাজেট অনুযায়ী পছন্দ মতো পশু কেনা সহজ হয়েছে। তাই ওজনে পশু বিক্রির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে অনেকেই।

ক্রেতারা বলছেন, হাটে গিয়ে দরদাম করার বিষয়টি সত্যিই অনেক কষ্টকর। খামার থেকে ওজনে কেনার কারণে গরু কিনতে গেলে যে কষ্ট সেটা কমে যাচ্ছে।

আর বিক্রেতারা বলছেন, হাটে গুরু বিক্রি করতে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ক্রেতারা খামারে আসায় সেই সমস্যা থেকে যেমন রেহাই পাচ্ছি। ঠিক অন্য দিকে ওজনে পশু বিক্রি করাতে দরদাম নিয়ে ঝামেলা করতে হচ্ছে না। ওজনে যা দাম আসছে ক্রেতা সেই দামে দিচ্ছে।

ইসলামী চিন্তবিদরা বলছেন, ওজনে কোরবানির পশু কেনাবেচায় ধর্মীয়ভাবে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। তাই যে কেউ চাইলে এভাবে পশু কিনতে পারবেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো প্রকার গুনা বা নাজায়েজ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ আলেম ওলামাদের দ্বিমত পোষণ করার কিছু নেই।

বাড়তি ঝামেলা এড়াতে অনেকেই যাচ্ছেন খামারে। তবে বলে চাপ বাড়তে পারে বলছেন খামারিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *