সত্যতা মিললো বৃষ্টিস্নাত সেই ছবির

আর্টিকেল: সোমবার দুপুর থেকে ফেসবুকে ঝর তোলে একটি বৃষ্টিস্নাত জুগলের ছবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির চায়ের দোকানের সামনে বসে বৃষ্টিস্নাত জুগল এক অপরকে চুম্বন করছে।

এই ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সেই সাথে উঠে আসে নানা ধরনের মন্তব্য। এই প্রেমিক যুগলকে যেমন অনেকে সাধু বাদ জানিয়েছে আবার কেউ কেউ ছবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এটি একটি সাজানো ছবি হিসেবে মন্তব্য করেছেন অনেকে। আবার কেউ বলছেন এডিট করে চুম্বনরত প্রেমিক যুগলের ছবি সেখানে বসানো হয়েছে। এই নিয়ে রীতিমত বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিতর্কের জবাব দিয়ে এই আলোচিত ছবিটি ধারনকারী আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ জানালেন ছবিটি তার তোলা। এখানে কোনো কিছু এডিট করা হয়নি। এবং সাজানোও না।

আলোচিত এই ছবিটি নিয়ে জীবন আহমেদের সাথে সোমবার রাতে কথা হয়। ওই মুহূর্তে এই জুটির ধারনকৃত মোট ১৩টি ছবি এসে পৌঁছে বাংলার কাছে। যা সরবরাহ করেছেন জীবন আহমেদ। এই ছবি গুলো তার নিজের তোলা।

জীবন বলেন, ‘সোমবার দুপুরে যখন বৃষ্টি হচ্ছিলো আমি তখন টিএসসি ছিলাম। বৃষ্টির ছবি তুলছিলাম। ঠিক সে সময়েই এই যুগলের ছবি তুলি। ছবিটি সোমবার বেলা ২টা থেকে আড়াইটার ভেতর তোলা হয়েছে।’

এরপর নিজের ফেসবুক ওয়ালে ছবিটি পোস্ট করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সেই সাথে শুরু হয় বিতর্কও।

সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তাফিজ শফি তার ফেসবুক ওয়ালে এই ছবির সত্যতার প্রশ্ন তুলে একটি স্টাটাস দেন। তিনি লিখেন, ‘টিএসসির একটি ছবি নিয়ে ফেসবুকে বেশ আলোচনা হচ্ছে। ছবিটি ভাইরালও হয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই সন্দেহ হচ্ছিলো।

তাই সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পাঠালাম সহকর্মী ফটোসাংবাদিক মামুনুর রশিদকে। ঠিক একই এঙ্গেল থেকে সেখানকার একটি ছবি তোলে আনতে তাকে অনুরোধ জানালাম। কিছুক্ষণ আগেই হাতে পেয়েছি মামুনের তোলা ছবি।

কারো ইচ্ছে হলেই ভাইরাল ছবিটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন। সহজেই বোঝা যাবে পেছনে ব্যাগ্রাউন্ড বদলানো হয়েছে। একজন ফটো বিশেষজ্ঞ বললেন, যে দুই নরনারীর ছবি ওইখানে আছে সেটাও বৃষ্টির ছবি নয়।

অর্থাৎ ছবিটি বদলানো হয়েছে কমপক্ষে তিন লেয়ারে। বুঝতে পারছিনা এই ছবি প্রকাশের উদ্দেশ্য কী- আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, আরও সাহসী হচ্ছি এটা বুঝানো, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠির কাছে বিতর্কিত করা?’

এ বিষয়ে আলাপকালে জীবন আহমেদ বলেন, ‘উনি একজন গুনি মানুষ। আমার সিনিয়র। ব্যক্তিগত ভাবে পরিচয় না থাকলেও আমি তাকে চিনি, সন্মান করি। তিনি চাইলেই এই ছবির বিষয়ে আমার একটা বক্তব্য নিতে পারতেন। তাতে তার জন্য ছবিটির সত্য মিথ্যা ‘জাস্টিফাই’ করা আরো সহজ হতো।’

জীবন বলেন, ‘একটি ছবি নিয়ে অনেক সময় বিতর্ক তৈরি হয়। হতে পারে এটা। অস্বভাবিক কিছু না। সময়ই আসলে বলে দেয় কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা। এর আগেও আমার বেশ কিচু ছবি আলোচিত হয়েছে এবং ভাইরাল হয়েছে। তবে এই মাত্রায় প্রশ্ন ওঠেনি। এবার মনে হয় একটু বেশিই হলো…। তবে এসব নিয়ে আমি ভাবছি না।’

এদিকে যে ছবিগুলো এসেছে সে সব ছবি পর্যবেক্ষন করে এবং আশে পাশের চরিত্র গুলোর সময়ের সাথে অবস্থান পরিবর্তনের চিত্র দেখে ছবিটির সত্য সম্পর্কে জীবনের কথার সাথে মিলে যায়।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে যুগলের পেছনে নীল শার্ট আর লুঙ্গি পড়া ছাতা মাথায় যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে তাকে অন্য একটি ছবিতে দেখা গেছে পাশের দোকান থেকে কিছু কিনছে। সেই ছবিতে এই যুগলের তরুণীটি চায়ে চুমুক দিচ্ছে। আর তরুণ চায়ের কাপ মুখের সামনে ধরে আছে। এমন বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে জীবনের পাঠানো অন্য ছবিগুলোতেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *