ভারত, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের সামরিক বাজেট

জাতীয় আর্টিকেল: ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশের সামরিক বাজেট বেড়েছে ১২৩ শতাংশ। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট (সিপ্রি) বিভিন্ন দেশের সামরিক ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে।

গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সামরিক খাতে ব্যয় ছিল প্রায় ছয় হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।যদিও সর্বশেষ বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।

গবেষণা সংস্থাটির বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মিয়ানমারের তুলনায় বাংলাদেশে সামরিক খাতে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সৈন্য ও সমরাস্ত্র বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। তবে বাংলাদেশের আরেক প্রতিবেশী দেশ ভারতের সামরিক ব্যয় বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ বেশি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়, শুধু গত ১০ বছরে বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। ভারত নিজেকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর। আরও দুটি প্রতিবেশী দেশ চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরিতা রয়েছে তাদের।

ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক শক্তির তুলনা সমতাভিত্তিক হবে না। এরপরও সিপ্রির প্রতিবেদনে এই দুটিসহ অন্যান্য দেশের ব্যয় বাড়ার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

মিয়ানমার বরাবরের মতোই সামরিক ব্যয় সম্পর্কে রাখঢাক করায় দেশটির বিষয়ে পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরা যায়নি বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি।

২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক ব্যয় সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটিও ‘অনিশ্চিত’ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির হার ৪০ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশের মধ্যে।

সামরিক ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের চেয়ারপারসন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ.ন.ম মুনিরুজ্জামান বলেন, সামরিক বাজেট বৃদ্ধি বেশ বড় আকারের। কিন্তু এ বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়।

‘গত ১০ বছরে সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন সেনানিবাস স্থাপনসহ আরও কিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। তবে সামরিক বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় বেতন-ভাতা এবং স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে’, বলেন মুনিরুজ্জামান।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারপারসন বলেন, ‘বেতন-ভাতা এবং স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচের পর সীমিত অংশ দিয়ে অস্ত্র ক্রয় করা হয়। নতুন সাবমেরিন এবং অন্যান্য সমরাস্ত্র ক্রয়ের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।’ স্বাভাবিকভাবে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা থাকবে বলে মনে করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আবহাওয়া অধিদফতরের জন্যও সে বাজেট থেকে টাকা খরচ করা হয়। যেহেতু দেশের অর্থনীতির বিচারে প্রতি বছরই খরচ বাড়ে, সে জন্য ১০ বছরে ১২৩ শতাংশ সামরিক বাজেট বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলা যাবে না।’

গত বছর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সংসদে যে বাজেট পেশ করেছিলেন, সেখানে দেখা গেছে অন্তত ১০টি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে বিভিন্ন সেনানিবাসে হাসপাতাল আধুনিকায়ন কিংবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রকল্পও রয়েছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাজেট বাংলাদেশের চেয়ে কম। ‘তাহলে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর আকার এবং সরঞ্জাম বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হয় কীভাবে?’

এমন প্রশ্নের জবাবে মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক বাজেটের পরিষ্কার চিত্র প্রকাশ করা হয় না। চীনের কাছ থেকে তারা প্রচুর অস্ত্র পায়। এসব অস্ত্র কি তারা বিনামূল্যে পায়, নাকি ক্রয় করে, সে সংক্রান্ত কোনো পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায় না।’

তবে বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই সামরিক খাতে ব্যয় বাড়লেও রাশিয়াতে সেটি কমেছে। ২০১৬ সালের তুলনায় রাশিয়ায় সামরিক খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।

পৃথিবীতে সামরিক খাতে বেশি খরচ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। আর তৃতীয় অবস্থানে সৌদি আরব। কিন্তু খরচের দিক থেকে আমেরিকা, চীন ও সৌদি আরবের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *