গাভাস্কারের মাঠ ছাড়ার সেই ঘঠনা আবারো মনে করিয়ে দিলেন তারই সঙ্গী চেতন

খেলাধুলা: শুক্রবার দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চলমান নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে শেষ ওভারে পাওয়া এই জয় যেমন আলোড়ন তুলেছে, তেমনি ওই একই ওভারে নো-বল বিতর্ক।

পাশাপাশি বাংলাদেশের একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড়কে লঙ্কান ক্রিকেটার ধাক্কা দেয়ার পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দলকে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসার নির্দেশও বেশ ধাক্কা দিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে।

আইসিসি সাকিব ও সেই রিজার্ভ ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহানকে ২৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা এবং একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছে। যদিও অনেকের মতেই সাকিব ঠিক কাজটিই করেছিলেন ওভাবে প্রতিবাদ করে।

অনেকের কাছেই এটা ভুল। সে ম্যাচে ধারাভাষ্যের দায়িত্বে থাকা ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারেরও অধিনায়ক থাকাকালে হয়েছিল এমন এক অভিজ্ঞতা।

কলম্বোয় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার একই সাথে ক্রিকেটিয় সৌন্দর্য ও খেলোয়াড়দের আচরণের কদর্যতা ছড়ানো এই টি-টুয়েন্টি ম্যাচ অনেককেই ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্নে ভারতের সেই টেস্টের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্যাট করতে থাকা দল নিয়ে মাঠ থেকে প্রায় বের হয়েই গিয়েছিলেন অধিনায়ক গাভাস্কার।

সেই স্মৃতিই রোমন্থন করেছেন সেসময় ওপেনিং জুটিতে গাভাস্কারের সঙ্গী চেতন চৌহান। সিরিজের তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অজি পেসার ডেনিস লিলির বলে এলবিডাব্লিউ দেয়া হয়েছিল গাভাস্কারকে।

তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে আউট হননি কারণ বল ব্যাটের কানায় লেগেছিল। গাভাস্কার খুব ভাল ব্যাটিং করছিলেন। তাই চৌহানের সাথে মিলিয়ে নেওয়ার জন্য তার মতামত জানতে চান। চৌহানও মতামত দেন আউট হননি বলে।

কিন্তু আম্পায়ার না মানায় কিছুক্ষণ পর চৌহানকে তার সাথে মাঠ ছাড়তে বলেন গাভাস্কার। চৌহানের ভাষ্যে, ‘তিনি আমায় বললেন অজিরা প্রতারক। জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের প্রতিবাদ করা উচিত কিনা।

আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি অধিনায়ক, সিদ্ধান্ত আপনার।’ এরপরই ক্রিজ ছেড়ে দুজনে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা দেন। তারা বেরিয়েই যেতেন বাউন্ডারি লাইনে দলের ম্যানেজার শহিদ আলি দুররানি এবং পরবর্তী ব্যাটসম্যান দিলিপ ভেংসরকার তাদের বাধা না দিলে। গাভাস্কার শান্ত হলে ভারত আবার ব্যাট করতে ফিরে যায়। ম্যাচটি ৫৯ রানে জিতেছিল দলটি। আউট হওয়ার আগে গাভাস্কার করেছিলেন ৭০ রান।

বাংলাদেশের ঘটনায় সাকিব মাঠে ছিলেন না। শেষ ওভারে লঙ্কান পেসার ইসুরু উদানা প্রথম দুই বলে বাউন্সার দিলেন। দ্বিতীয়টির পর নো ডেকেছিলেন লেগ আম্পায়ার। কিন্তু মূল আম্পায়ারের সাথে আলোচনা করে সে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।

এই সময় পানীয় নিয়ে ঢোকা সোহানকে ধাক্কা দেয়ার ঘটনায় আরো ক্ষিপ্ত হন সাকিব। দুই ঘটনার জেরে ক্রিজে থাকা দুই ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেনকে ফিরে আসতে বলেন। পরে সাকিব শান্ত হন। দল ব্যাটিংয়ে নামে। ভারতের মত বাংলাদেশও জেতে এই ম্যাচটি, ১ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখে।

এই ম্যাচের পর সাকিবকে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন চৌহান, ‘ক্রিকেটার হিসেবে এটা আসলেই হতাশার। কিন্তুই তোমার এটা মেনে নিতে হবে। নতুবা জরিমানা গুনতে হবে। এখন তোমাদের থার্ড আম্পায়ার আছে, রিভিউ চাইতে পার।

আমাদের কথা ভাব, হতাশ হলে তা দেখানোরও উপায় ছিল না।’ গাভাস্কার সাকিবকে চৌহানের মত কোন উপদেশ দেননি। তবে যদি কোন কারণে সমালোচনা করেন তা কি তাকে মানাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *