স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ একই হলে যে সমস্যা হয়

আর্টিকেল: সমাজে বিয়ে করার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন গড়ে ওঠে। এরপর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে ভাবাভাবি শুরু। বিয়ের আগে আমরা পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এসমস্ত সকল বিষয়ে যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে থাকি।

স্বামী-স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আগে প্রথমে আমাদের ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার। প্রধানত রক্তের গ্রুপকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা –

১) ABO system (A, B, AB & O),
২) Rh factor ৷ এটি আবার দুই ধরনের ৷ যথা-
i) Rh positive(+ve)
ii) Rh negative(-ve)

এবার জেনে নেয়া যাক, যদি এক গ্রুপের রক্ত অন্য কারো শরীরে দেয়া হয় তাহলে কী হবে? যখন কোনো Rh নেগেটিভ গ্রুপের কোন ব্যক্তির শরীরে Rh পজেটিভ গ্রুপের রক্ত দেয়া হয় তখন প্রথমবার সাধারণত কিছু হবে না।

কিন্তু এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে এন্টিবডি তৈরি হবে ৷ ফলে পরবর্তীতে যদি কখনো রোগী আবার পজেটিভ ব্লাড নেয় তাহলে তার ব্লাড cell গুলো ভেঙ্গে যাবে, ফলে জ্বর, কিডনি ফেইলিউর, হঠাৎ মৃত্যু ইত্যাদি হতে পারে ।

স্বামী-স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ একই রকম হলে কি হবে ? অনেকের ধারনা স্বামী ও স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে সমস্যা হয় ৷ কিন্তু বাস্তবে তা ঠিক নয়৷ বরং একই রকম হওয়া জরুরী৷ অর্থাৎ –

* স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ ও পজেটিভ হতে হবে।
* আর যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে।
* স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হলে স্বামীর ব্লাডগ্রুপ ও নেগেটিভ হতে হবে।

স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ আর স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হলে কী সমস্যা হবে? রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোন সমস্যা হয় না। তবে স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয় তাহলে ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারন জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাঁধা দেয় বা জাইগোট মেরে ফেলে। ফলে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়।

যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় তাহলে সাধারণত বাচ্চার ব্লাডগ্রুপ ও পজেটিভ হবে। আর যখন কোনো নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপের মা পজেটিভ Fetus(ভ্রুন) ধারন করবে তখন সাধারনত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

কিন্তু ডেলিভারির সময় পজেটিভ Fetus এর ব্লাড, placental barrier ভেদ করে এবং placental displacement এর সময় মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে। আর তা কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে Rh এন্টিবডি তৈরি করবে।

পরবর্তীতে মা যখন দ্বিতীয় সন্তান গ্রহণ করবে, আর fetus এর ব্লাডগ্রুপ যদি পুনরায় পজেটিভ হয় তাহলে মায়ের শরীরে আগে তৈরি হওয়া Rh এন্টিবডি placental barrier ভেদ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে।

ফলে fetus এর শরীরে Rh antibody ঢুকার কারনে fetal এর RBC এর সঙ্গে agglutination হবে, আর এতে ভ্রুণের RBC ভেঙ্গে যাবে। ফলে বাচ্চা নষ্ট হবে বা মারা যাবে ৷

কিন্তু, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো তার পরেও আমরা স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সংক্রান্ত ব্যাপারটি কেন যেন ভুলে যাই। অনেকের আবার ভ্রান্ত ধারণা- বাবা মায়ের রক্তের গ্রুপ এক হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া হয়। এটাও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ, থ্যালাসেমিয়া রোগ ক্রোমোজোম এবনরমালিটি থেকে হয়।

স্বামীর রক্তের গ্রুপ স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সন্তানের অবস্থান:
পজিটিভ(+) পজেটিভ(+) সুস্থ সন্তান
নেগেটিভ (-) নেগেটিভ (-) সুস্থ সন্তান
নেগেটিভ (-) পজেটিভ (+) সুস্থ সন্তান
পজিটিভ (+) নেগেটিভ (-) প্রথম সন্তান সুস্থ, দ্বিতীয় থেকে সমস্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *