প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে নতুন ডিভাইস আবিষ্কার করলো দেবীগঞ্জের রানা

আর্টিকেল: বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত সমস্যাগুলোর ভেতর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যার নাম ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’। এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে জাতি এখন জরাগ্রস্থ। শিক্ষার্থীরা আজ দ্বিধান্বিত। অভিভাবকেরা উৎকণ্ঠিত।

কারণ একটাই, প্রশ্নফাঁস। প্রতিটি পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে প্রশ্নপত্র। কোনভাবেই তা ঠেকানো যাচ্ছে না। সরকার এর জন্যে পুরষ্কারও ঘোষণা করেছে ইতিমধ্যে। কিন্তু কিছুতেই যেন আটকানো যাচ্ছে না লাগামহীন এই ঘোড়াকে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। তারা না পারছে পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে, না পাচ্ছে সঠিক প্রশ্ন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, সারারাত না পড়ে প্রশ্নপত্র পাওয়ার চেষ্টায় বিরামহীন পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

কিন্তু সকালে প্রশ্ন পেলেও তা সম্পূর্ণ আয়ত্ত্ব করার সময় পাচ্ছে না। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা হচ্ছে প্রতারিত। টাকা নিয়েও একদল প্রতারকচক্র সরবরাহ করছে ভুল প্রশ্নপত্র। ফলে এর প্রভাব পড়ছে সমগ্র ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে দেশ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীর প্রজন্ম আস্তে আস্তে বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। এটা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতেই দেশের সমস্ত কর্মক্ষেত্র বিকল হয়ে পড়বে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবার নতুন আশার বানী শুনিয়েছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের ছেলে মো: রানা ইসলাম। তাঁর দাবি, তিনি এমন এক ডিভাইস আবিষ্কার করেছেন, যেটা দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব।

তাঁর কথায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়ার নতুন ডিভাইস আবিষ্কার করেছি। আমাদের দেশে বিভন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। তাই এই ডিজিটাল লক হাউজটি আবিষ্কর করেছি। বোর্ড থেকে এই ডিজিটাল হাউজটির ভেতরে প্রশ্নপত্র প্রতিটি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে এবং পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে কন্টলরুম থেকে এই ডিজিটাল হাউজটির দরজা আনলক করে দেওয়া হবে।

এর আগে কেউ লক খোলার চেষ্টা করলে তার ছবি ভিডিওসহ কন্ট্রোলরুমে চলে যাবে। আর এই লকটি কন্ট্রোলরুম ছাড়া কেউ খুলতে পারবেনা। এ প্রযুক্তি আমাদেরকে বোর্ড থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১ঘন্টা আগ পর্যন্ত সুরক্ষা দিচ্ছে।

তাই সরকার যদি এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এই ‘ডিজিটাল হাউজ’ এর ভিতরে প্রশ্নপত্র প্রতিটি সেন্টারে প্রেরণ করে, আমার মনে হয় প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না। আমি এই ডিভাইজটি নিয়ে ২০১৩ সালে কাজ শুরু করে ২০১৭ সালে সফল হয়েছি।

এটি তিনটি মোবাইল ফোন, চারটি সিম ও দেশের যে কোন জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই আমি অনুরোধ করবো, আমারা ডিভাইসটি যেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরীক্ষীত হয়।

মো: রানা ইসলাম
দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *