ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ারের জন্য বিষয় নির্বাচন

আর্টিকেল: ক্যারিয়ার নিয়ে সবারই কমবেশি ভাবনা থাকে। কিছু কিছু বিষয় আছে যা নিয়ে লেখাপড়া করলে ক্যারিয়ার নিয়ে একটু কমই চিন্তা করতে হয়। এমন বেশ কিছু পেশাই রয়েছে।

তারপরও বাছাইকৃত নিশ্চিত ভবিষ্যতের বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশোনায় অনেক সংশয়ই কাজ করে। তাই আজকের মূল ফিচারে জনপ্রিয় কিছু পেশায় শিক্ষারত শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারের বর্তমান ও ভবিষ্যত ভাবনা তুলে ধরা হলো। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাস ঘুরে লিখেছেন মাহবুব শরীফ

ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স বিষয় নিয়ে পড়ার আগ্রহ এখন অনেকেরই। অভিভাবকদেরও পছন্দের বিষয় এটি। তাই দেশে এবং বিদেশে, প্রায় সব জায়গাতেই এই বিষয়ে পড়াশোনার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন অনেকেই।

তারপরও এই বিষয়ে পড়ালেখার পর ভবিষ্যতটা কতটা সুগম, তা লোকমুখে শুনলেও অনেকেরই হয়তো সামনাসামনি এর ফলাফল দেখা হয়নি। তাই এই বিষয়ের ক্যারিয়ার নিয়ে কৌতুহল থাকাটাই স্বাভাবিক। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিষয় নিয়ে সদ্য পাস করেবের হওয়া ইঞ্জিনিয়ার তুহিনুর রহমান। আর ১০ জন প্রকৌশলীর মতো তারও স্বপ্ন নামকরা প্রকৌশলী হওয়া।

ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় আবেদনও দাখিল করেছেন চাকরির জন্য। তবুও উচ্চ শিক্ষার পথে চলছেন তিনি। এই বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করে তার নিজের ক্যারিয়ার ভাবনার প্রশ্ন করলে তিনি জানান, প্রকৌশলী হচ্ছে একটি সম্মানজনক পেশা। এ পেশার স্বপ্ন কমবেশি সবারই থাকে। তারও স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। এখন ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেনও।

বর্তমান জায়গা থেকে নিজের ক্যারিয়ারের দূরদৃষ্টি নিয়ে তিনি বলেন, ক্যারিয়ার নিয়ে আমার স্বপ্ন হচ্ছে আমি আপাতত ছোট একটা চাকরি করে আমার এমএসসি শেষ করবো। আমার বন্ধুরা অনেকেই চাকরি করছে এখন। আমিও শুরু করব শীঘ্রই। আমার আশপাশের বন্ধু ও লোকজনের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে যদি বলি, বাংলাদেশে এই ধরনের পেশার মূল্যায়ণ অনেকটাই দৃশ্যমান।

আমার মনে হয় আমি সঠিক বিষয় নিয়েই পড়ালেখা করেছি। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের বাংলাদেশে খুবই চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশেও রয়েছে বেশ সুযোগ। তবে এই মুহূর্তে একটি সরকারি চাকরি করার ইচ্ছে খুব আমার। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে।

যেমন ধরুন—বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানি, ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি, বিভিন্ন শিল্প কারখানাসহ অনেক জায়গাতেই এই বিষয়ের ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা রয়েছে। তাই পড়াশোনার এই পর্যায়ে এসে আমি স্পষ্ট আমার ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি। এই বিষয়ে যেই পড়তে চান, আমি অবশ্যই তাকে স্বাগত জানাবো। দেশে এবং বিদেশে, সব জায়গাতেই এই বিষয়ে পড়াশোনা করার যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি চাকরির জন্য জায়গাও রয়েছে অনেক।

শুধুই তুহিনুর রহমান নয়, এরকমই আরেকজন হলেন মোহাম্মদ ফেরদৌস ওয়াহিদ। এ বছরই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বের হয়েছেন। চাকরির জন্য চেষ্টা যেমন করছেন, ঠিক তেমনই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য প্রস্তাবও পাচ্ছেন। ঠিক নিজের মন মতো হচ্ছে না বিধায়ই যোগ দিচ্ছেন না তিনি। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাই ভালো কিছু প্রত্যাশা করে। আমার প্রত্যাশাও তেমন।

ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই সরকারি চাকরি করে এবং করবে। আমিও ওই বড় শতাংশের মধ্যেই থাকতে চাই। বাংলাদেশে এই পেশার মূল্যায়ণ ভালো, চাহিদাও অনেক, এখন শুধুই স্বপ্ন দেখছি। তাই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্তাব এলেও খুব গুরুত্ব এখনই দিচ্ছি না। তবে আমি চাকরি পেয়ে গেলেই এমএসসি’র জন্য আবেদন করব।

পরবর্তীতে পিএইচডি করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে হ্যাঁ, এসব প্রস্তাবগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলব, চাকরিদাতারা অবশ্যই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেশি মূল্যায়ণ দেয়। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে যারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলে, এরাও ভালো মূল্যায়ণ পায়।

এ রকমই আরেক নব্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাকির হোসাইন। কম্পিউটার সায়েন্সে অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) থেকে পাশ করেছেন। তার চোখে মুখে স্বপ্নও অনেক। তার কাছে প্রশ্ন ছিল—পেশা হিসেবে তিনি কেন সিএসই বাঁছাই করলেন? তিনি বলেন— কম্পিউটার সায়েন্সের মাধ্যমে আমি আমার ক্রিয়েটিভিটি মানুষকে দেখাতে পারব। দিন যতই যাচ্ছে, মানুষ ততটাই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই আগামীর পৃথিবীটা প্রযুক্তি নির্ভর। আর সেই জায়গা থেকেই এই পেশার প্রতি আগ্রহ আমার। পাশাপাশি কম্পিউটার সায়েন্সের ইচ্ছেটাও বেশ আগের। আমি এটাকে বেশ উপভোগ করি। এটা যে কেউই বলতে পারবে যে, এই পেশার বর্তমান এবং ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল ও ব্যস্তময়। এখন আমি একটি কলেজের লেকচারার হিসেবে আছি।

তবে খুব শীঘ্রই সিএসই নির্ভর পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করব। মনমতো জায়গাটা পেয়ে গেলেই নিজেকে যোগ দেব। তবে এখনও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্তাব পাচ্ছি।’ তবে হ্যাঁ, শুধুই সিএসই নয়, কম্পিউটার নির্ভর যাবতীয় প্রায় সকল পেশাই এখন বিশ্বব্যাপী সম্ভাবনাময় এবং খুব প্রয়োজনীয়। একে ঘিরে বিভিন্ন জন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও বেশ ভালো অবস্থানে আছেন অনেকেই।

এবার আসা যাক ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। কিছুদিন আগেই জনি বড়ুয়া ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পাস করে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হয়েছেন। তিনি এখন ডিপিডিসি’তে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করছেন। নিজের অবস্থান থেকে পর্যবেক্ষণ করে এই পেশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হয়, তার চেয়ে বেশি চাকরির জন্য জায়গা থাকে।

অন্য সব ইঞ্জিনিয়ারদের তুলনায় দেশে ও বিদেশে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বেশি। বিসিএস ক্যাডারদের বিষয়টা ভিন্ন। এর বাইরে যদি বলা হয়, তাহলে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররাই শীর্ষে।

আমরা ৩৮ জন ডিপিডিসি’তে যোগদান করেছি। তার মধ্যে ৩৪ জনই হচ্ছে ইলেকট্রিক্যাল ২ জন সিভিল ও ২ জন সিএসই।’ ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন হয়তো সবারই থাকে। সেই স্বপ্নকে পুঁজি করেই আজ আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে পেরেছি। তাই নিজের ভবিষ্যত বাছাইয়ের বেলায় কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই এই বিষয়কে বেছে নিতে পারে যে কেউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *