বিদায় বেলায় অশ্রুসিক্ত মেসি

খেলাধুলা: অন্তরঙ্গ বন্ধুই শুধু নন। ছিলেন আপনের আপন। আত্মার আত্মা। প্রিয় সেই বন্ধুর বিদায়ের দিনে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারেন মেসি! লুকিয়ে রাখতে পারেন চোখের জল! তা পারলেনও না মেসি। পরম বন্ধু হাভিয়ের মাচেরানোকে বিদায় জানাতে এসে জল গড়াল ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর চোখে। কাঁদলেন মেসি। হাউমাউ করে কান্না নয়। বোবা কান্না।

পূর্ব সিদ্ধান্ত মতোই বুধবার সন্ধ্যায় হাভিয়ের মাচেরানোকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছে বার্সেলোনার খেলোয়াড়-কোচ-কর্মকর্তারা। দীর্ঘ সাড়ে ৭টি বছরে ক্লাবের ১৭টি শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন যিনি, হয়ে গেছেন ক্লাবের ইতিহাসের অংশ, সেই মাচেরানোর এমন একটা বিদায়ী সংবর্ধনা প্রাপ্যই ছিল। ক্লাব বার্সা সেই প্রাপ্য দিতে কার্পণ্য করেনি।

খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে সংবর্ধনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি ও বার্সেলোনার সাবেক মিডফিল্ডার জাভি। আবেগে কম্পমান মেসি যেন ধরেই নিয়েছিলেন বন্ধুত্বের সম্পর্কটা চিরতরের জন্য ছিঁড়ে যাচ্ছে। প্রিয় বন্ধুর দেখা-সান্বিধ্য আর মিলবে না!

অবশ্য অবচেতন মনের সেই ভাবনা দ্রুতই উড়ে যায়। মেসি বুঝতে পারেন এই বিদায় শেষ বিদায় নয়। এই বিচ্ছেদটা শুধুই ক্লাব ফুটবল থেকে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে শিগগিরই আবার দেখা হবে, খেলা যাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

তাই দ্রুতই নিজেকে স্বাভাবিক করে বন্ধুকে বিদায় জানান মেসি। বুকে জড়িয়ে ধরে জানান অভিনন্দন। জানান নতুন চ্যালেঞ্জের আগাম শুভ কামনা। পরে একে একে বার্সেলোনার সব খেলোয়াড়েরাই বুকে জড়িয়ে বিদায় জানিয়েছেন বিদায়ী বন্ধুকে।

বিদায়ী সংবর্ধনার পরপরই মাচেরানো চীনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন বলে খবর। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করবেন চীনে পৌঁছেই। তবে চীনা ক্লাব হেবেই চীনা ফর্চুন এরই মধ্যে মাচেরানোকে নিজেদের খেলোয়াড় বলে ঘোষণা দিয়েছে। বার্সা ছাড়ার আগে আগে মাচেরানো বলে গিয়েছেন বার্সেলোনা ছাড়ার কারণটাও।

যেমনটা ভাবা হয়েছিল, কারণ ব্যাখ্যায় মাচেরানোও বললেন সেটাই। শুনতে পাচ্ছিলেন বয়সের ডাক! বয়স ৩৩ হয়ে গেছে। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ভালো করেই বুঝতে পারছিলেন বার্সেলোনার মতো বিশ্বসেরা ক্লাবের রক্ষণ সামলানোর কঠিন চ্যালেঞ্জটা এখন আর আগের মতো নিতে পারছে না শরীর। তাই নিজে থেকেই বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শুধু মাচেরানোই নন। কদিন আগে ন্যু-ক্যাম্প ছেড়েছেন তুর্কি মিডফিল্ডার আরদা তুরানও। রাফিনাও বার্সা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানে। বিদায়ী শুভেচ্ছার অংশ হিসেবে মেসি এই তিনজনেরই ছবি পোস্ট করেছেন নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে। ছবির নিচে জানিয়েছেন শুভেচ্ছাও।

মাচেরানো, আরদা তুরান ও রাফিনাকে শুভ কামনা জানিয়ে বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিখেছেন, ‘আরদা, তুমি খুবই ভাগ্যবান যে, নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের দেশে ফিরে গেছ। আমি নিশ্চিত তুমি সেখানে দারুণ কিছুই করবে।’

পরের প্যারায় লিখেছেন, ‘রাফিনা, ইতালিতে তোমার সাফল্য কামনা করছি। আন্তরিকভাবেই আমরা তোমাদের খোজখবর রাখব। ভালো থেকো।’

স্বদেশি বন্ধু মাচেরানোকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শেষ প্যারায়, ‘সর্বশেষ তোমাকে বলছি মাচে। এক সঙ্গে অনেক অনেক ম্যাচ এবং মুহূর্ত কাটানোর পর অনেক কথাই মনে পরছে। অনেক কথাই বলতে ইচ্ছা করছে। তুমি তো ভালো করেই জান যে, তোমাকে কতটা মিস করব।

ক্লাবের ড্রেসিংরুমে ভূতূরে এক অভিজ্ঞতাই অপেক্ষা করছে আমার জন্যে। কারণ, তুমি আমার পাশে থাকবে না। তবে আশা করি জাতীয় দলের হয়ে শিগগিরই আমরা একে অপরকে দেখতে পাব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *