সার্কিট ব্রেকার এবং এর কার্য-প্রণালী

শিক্ষা আর্টিকেল: সার্কিট ব্রেকার হচ্ছে একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র যা মূলত কোন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র/ডিভাইসের নিরাপত্তা প্রদান করে। কোন কারণে এসি লাইনে যদি অতিরিক্ত পরিমান বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তাহলে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আগুন লাগাও বিচিত্র নয়।

যেমন- কোন কারণে যদি এসি লাইনে শর্ট সার্কিট (Short Circuit) ঘটে, মাত্রাতিরিক্ত লোড লাগানো (ওভার লোড), কিংবা যদি কোন কারণে আপনার বাসার লাইন ভোল্টেজ বেড়ে যায় (ফলে কারেন্টের প্রবাহ বৃদ্ধি হয়)। এসমস্ত ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার নিজে থেকেই ট্রিপ (Trip) করে বা বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতি কে রক্ষা করে।

কার্যপ্রণালী: স্বাভাবিক অবস্থায় সার্কিট ব্রেকার অন/ক্লোজ অবস্থায় থাকে। কোন কারণে যদি ওভারলোড হয় বা শর্ট সার্কিট ঘটে তাহলে সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয় ভাবে অফ/ওপেন হয়ে যায়। কিন্তু কিভবে এই কাজটি ঘটে তা বেশ মজার।

একতি স্প্রিং চালিত সুইচ ব্যবহার করা হয় এই কাজে। অনেকটা কলিং বেলে ব্যবহৃত গোলাকার পুশ সুইচের মতোই; কিন্তু এটি আরো দৃঢ় ও সুসংবদ্ধ। এর সাথে ব্যবহার করা হয় একটি স্প্রিং লোডেড আয়রন বোল্ট। নিচের চিত্র দেখলে বুঝতে সুবিধা হবে – – –

 

প্রথমত সুইচ কে চেপে অন করা হলে তা নির্দিষ্ট স্থানে আটকে যায়, ফলে সুইচের ২ প্রান্ত পরষ্পরের সাথে সংযুক্ত হয়। চিত্রে কমলা রঙ দ্বারা সুইচের স্পর্শক প্রান্ত দেখানো হয়েছে। সুইচটি আটকানোর জন্য একটি আয়রন বোল্ট ব্যবহার করা হয়। আয়রন বোল্ট টির ঠিক পেছনেই একটি ইলেকট্রো ম্যাগনেট রাখা হয়। এটি প্রকৃতপক্ষে সলিনয়েড বা তারের কুণ্ডলী যার মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হলে এটি অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয়।

সুতরাং বুঝা গেলো যে, সুইচ কে অন করলে লোডে পাওয়ার পাবে, একই সাথে সলিনয়েডের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে এবং একে অল্প পরিমানে চুম্বকায়িত করবে।

কিন্তু যখন লাইনে কোন প্রকার ফল্ট হলে, সলিনয়েডের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ বেড়ে যাবে। ফলে সলিনয়েড টি নির্দিষ্ঠ সীমার অতিরিক্ত পরিমাণ চুম্বকায়িত হয়ে স্প্রিং বোল্ট কে নিজের দিকে টেনে নিয়ে পুশ সুইচ কে ওপেন করে দিবে। সুইচ টি ওপেন হয়ে তার আভ্যন্তরীন স্প্রিং এর চাপে নিজেকে উপর দিকে ঠেলে উঠিয়ে দেবে যার ফলে লোডের থেকে পাওয়ার লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ওভার লোড হলে কিংবা শর্ট সার্কিট ঘটলে এই প্রক্রিয়ায় এই ধরণের ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয় ভাবে লোডের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সমূহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এখানে উল্লেখ্য যে প্রায় সব ধরণের সার্কিট ব্রেকারই সেমি অটোমেটিক বা অর্ধ স্বয়ংক্রিয়। অর্থাৎ, ওভার লোডের কারণে এটি বন্ধ হলে একে ম্যানুয়ালি অন করতে হয়।

উপরের প্রক্রিয়াগুলো নিচে সার্কিটের মাধ্যমে দেওয়া হলো – – –

লেখাটি ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার করুন। এমন লেখা আরো পেতে ফেসবুক পেজে (TheArticle24) লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *