আপনার ফোনের মাধ্যমেই পাচার হচ্ছে আপনার তথ্য!

টেক আর্টিকেল: স্মার্টফোনের কিছু গেমের অ্যাপ ফোন সেটের মাইক্রোফোন ব্যবহার করে আপনার আচার-আচরণের উপর নজরদারি করে যাচ্ছে। তবে আপনি কী বলছেন বা আপনাকে কে কী বলছে তা শোনার চেষ্টা করছে না অ্যাপগুলো। আপনি টিভিতে কোন অনুষ্ঠান দেখছেন তাই জানার চেষ্টা করছে অ্যাপগুলোর নির্মাতারা।

বেশ কিছুদিন ধরে অ্যাপগুলো এভাবে মোবাইল ব্যবহারকারীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে আসছে। আপনি কোন টিভি অনুষ্ঠান দেখেন, কোন বিজ্ঞাপন শোনেন, এমনকি কোন সিনেমা দেখেন তাও মাইক্রোফোনের মাধ্যমে সনাক্ত করে অ্যাপগুলো। তবে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেক ব্যাপক আকারে ও গোপনীয়তার সাথে অ্যাপগুলো এভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন।

এমনকি ফোন বন্ধ থাকলেও, সেটির মাইক্রোফোন সচল রেখে আপনার সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করতে পারে অ্যাপগুলো। এমন বেশিরভাগ অ্যাপই অ্যানড্রয়েড ফোনের জন্য তৈরি হলেও, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরেও এমন কিছু গেম রয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তারা গুগল প্লে স্টোরে ২৫০টিরও বেশি গেম চিহ্নিত করেছে, যেগুলোতে বিশেষ সফটওয়ার ব্যবহার করে গ্রাহকরা টিভিতে কী দেখেন তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ওই বিশেষ সফটওয়ারটি অ্যালফন্সো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি। যেসব অ্যাপে এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করা হয় তাদের নির্মাতারা কখনই স্পষ্ট করে জানায়নি এটি ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হয়।

অধিকাংশ অ্যাপেই সফটওয়ারটির বর্ণনা ‘রিড মোর’ বা ‘আরও পড়ুন’ লেখা বাটনের নিচে দেয়া থাকে। আপনি যদি খুঁটিয়ে না পড়েন তাহলে অ্যাপটি যে আপনার উপর নজরদারি করছে তা জানতে পারবেন না।

টাইমস জানিয়েছে ২০১৬ সালে প্রায় ১২টি অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে এই ধরনের সফটওয়ার ব্যবহার করলে তা ক্রেতাদের জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ভোক্তাদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে ও তা কী কাজে ব্যবহার করা হবে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে বলা হয় তাদের।

বহুদিন ধরে ফেসবুকসহ কয়েকটি অ্যাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, তারা স্মার্টফোনের মাইক ব্যবহার করে মানুষ কী বলছে তা পর্যবেক্ষণ করে। ইউজাররা যে জিনিস নিয়ে কথা বলেন, তাদেরকে ফেসবুক ওই জিনিসের বিজ্ঞাপন দেখায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বর্তমানে আপনার সম্পর্কে এভাবে তথ্য জোগাড় করার দরকার নেই ফেসবুকের। কারন ইতিমধ্যেই তাদের কাছে আপনি ফেসবুক সাইটে কী করেন, তাদের অ্যাপ ব্যবহার করে কী করেন, এমনকি ইন্টারনেটে ব্রাউজ করার সময় অন্য সইটে গিয়ে কী করেন সে সম্পর্কে বিপুল পরিমাণে তথ্য রয়েছে তাদের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *