ভবিষ্যতদ্রষ্টাদের চোখে ২০১৮ সাল যেমন হবে!

আরটিকেলঃ শুরু হয়েছে ইংরেজি নতুন বছর ২০১৮ সাল। ফেলে আসা বছর ২০১৭ ছিল নানা ঘটনায় পূর্ণ। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনে জয়লাভ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া। মজার ব্যাপার হল, এসব ঘটনা সম্পর্কে কোনো কোনো ভবিষ্যতদ্রষ্টা আগেই বলে দিয়েছেন।

বছরের আলোচিত বিষয় দুটি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের লেখিকা এবং ভবিষ্যতদ্রষ্টা সিলভিয়া ব্রাউন আগেই অর্থাৎ ২০১৩ সালে তার মৃত্যুর পূর্বেই বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যিনি আসছেন তার কোনো রাজনৈতিক পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকবে না। এছাড়া ব্রেক্সিট নিয়েও কথা বলেছিলেন এই লেখিকা।

মার্কিন লেখিকা হলেও তার বেশ কিছু আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ছিল বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে ভবিষ্যত সম্পর্কে তিনি যা বলতেন তা অসম্ভব মনে হলেও মিলে যেত। লেখালেখির পাশাপাশি বিভিন্ন মিডিয়ায় তার ছিল সরব উপস্থিতি। ‘দি মন্টাল উইলিয়াম শো’ কিংবা ‘ল্যারি কিং শো’ এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোয় প্রায়ই তাকে অতিথি হিসেবে দেখা যেত।

সিলভিয়া ব্রাউনের মতো মার্কিন আরেক লেখক ক্রিগ হ্যামিলটন পারকার’ও তার লেখায় এমন সব বিষয়বস্তুকে স্থান দিতেন যা বাস্তবে মিলে যাওয়ার নজির রয়েছে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া কিংবা ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনিও ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন। অনেকে তার কথাকে পাগলের প্রলাপ মনে করলেও ভুল ভাঙ্গতে তাদের দেরি হয়নি।

শুধু মার্কিনীরাই নয়, বিশ্বের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই মনে করতেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পাত্তাই পাবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেন বেরিয়ে যাবে তা অনেকের কাছেই ছিল অলিক ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটেছে। ফলে লেখকদ্বয়ের ভবিষ্যত বাণীকে দাম না দিয়ে উপায় কি!

২০১৮ সালকে নিয়েও ভবিষ্যতদ্রষ্টাদের রয়েছে নানা দাবি। বছরটি যতোটা না সম্ভাবনার, তার চেয়েও বেশি শঙ্কার। ভবিষ্যতদ্রষ্টা নস্ট্রাদামুস থেকে শুরু করে বাবা ভাঙ্গার মতো ব্যক্তিরা এই বছরটির ব্যাপারে নানা শঙ্কার কথা বহু আগেই জানিয়ে রেখেছেন।

তাদের বক্তব্যে যা উঠে এসেছে তা হচ্ছে, পৃথিবীর শক্তিমান একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের জিদের কারণে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেবে। পৃথিবীতে প্রচুর মানুষ প্রাণ হারাবে। এই সময়টিতে পৃথিবীতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে যা মানুব জাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেবে। এছাড়া পৃথিবীতে অজানা রোগের আক্রমণ দেখা দেবে বলেও জানিয়েছিলেন নস্ট্রাদামুস।

এই বছরটিতে বিশ্বের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও তাদের বক্তব্যে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। পরিবেশ নিয়েও ভবিষ্যতদ্রষ্টারা নানা বাণী দিয়েছেন। এসময়টিতে পরিবেশ বিপর্যয় মারাত্মক আকারে দেখা দেবে বলেও সিলভিয়া ব্রাউন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

সিলভিয়া ব্রাউন এবং ক্রিগ হ্যামিলটন পারকার বলেছিলেন, এই বছরটিতে অর্থনীতিতে ধস দেখা দিতে পারে। প্রকৃতিও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া তাদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, এবছর শত্রুপক্ষের আক্রমণের দ্বারা মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ আক্রান্ত হবে এবং ডুবে যাবে। যার কারণে পাল্টা আক্রমণে যাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব আরও একটি ভয়াবহ যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত হওয়ায় জনগণের সমালোচনার মুখে পড়বেন ট্রাম্প। একারণে চলতি বছরে তিনি অনাস্থা মুখোমুখি হবেন বলেও তাদের দাবি। মার্কিন লেখকদ্বয় মনে করেন, চলতি বছরের বিপর্যয়ের বীজ আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালেই রোপিত হবে। যার ফল টের পাওয়া যাবে ২০১৮ সালে।

তবে তাদের বাণীতে আশার কথা যা উঠে এসেছে তা হচ্ছে, চলতি বছরে ধ্বংসের মধ্য দিয়েই পৃথিবীতে নতুন যুগের সূচনা হবে। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে ভবিষ্যতদ্রষ্টাদের বাণী কতটুকু মেলে। তবে এসব ভবিষ্যত বাণী মিথ্যে হোক, এমনটাই প্রত্যাশা সবার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *