জীবনের পরিবর্তনে সামলে নিন নিজেকে

লাইফস্টাইল: জীবনে একটি জিনিস কখনো শেষ হবে না, আর তা হলো পরিবর্তন। প্রতিনয়তই আপনাকে পরিবর্তনের মাঝে দিতে যেতে হবে। তবে তারমানে এই নয় যে সকলে পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারেন। জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, কিন্তু এর মধ্যে দিয়ে গেলে আপনারই উন্নতি হবে এক সময়ে। জেনে নিন পরিবর্তনের সাথে নিজেকে সহজে খাপ খাইয়ে নেবার ১০টি উপায়-

১) পরিবর্তনকে বুঝুন
অনেকেই পরিবর্তনটাকে এতই অপছন্দ করেন যে এটা নিয়ে চিন্তাও করেন না, বরং একেবারেই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। এটা ভুল। আপনার উচিৎ পরিবর্তন নিয়ে চিন্তা করা। পরিবর্তন হবে, এবং এর সাথে সাথে আপনিও তাল মিলিয়ে চলতে পারবেন, আপনার কোন ক্ষতি হবে না- এই চিন্তাটা আপনাকে কম স্ট্রেস দেবে।

২) পরিবর্তন ভালোর জন্যও হতে পারে
ভালো খারাপ দুই ধরণের পরিবর্তন থেকেই আমাদের স্ট্রেস তৈরি হতে পারে। সন্তানের জন্ম, গ্র্যাজুয়েশন এসব ব্যাপার নিয়েও অনেকের মাঝে স্ট্রেস কাজ করে। পরিবর্তনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার একটা প্রক্রিয়াই কিন্তু স্ট্রেস। এটাকে মেনে নিয়েই চলতে হবে। স্ট্রেস কমাতে আপনি কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন সেটা ভাবুন। যেমন সন্তান জন্মের পর ডাক্তারের সাথে স্ট্রেস কমানোর উপায় বা পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন কমানোর উপায় নিয়ে কথা বলতে পারেন।

৩) নিজের রুটিন ভাংবেন না
অনেকের পরিবর্তনের পাকে পড়ে একেবারেই এলোমেলো হয়ে যান। কিন্তু পরিবর্তন যতই বড়, নিজের রুটিন ধরে রাখা অতই জরুরী। জীবনের কিছু ব্যাপার একই রাখা দরকার। যেমন সকালে ৮টায় ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করা- এটা আমাদের জন্য নোঙ্গরের কাজ করে। আমাদেরকে এলোমেলো হতে দেয় না। স্ট্রেসটাকেও কম রাখে। খুব বেশী স্ট্রেসে থাকলে এই রুটিন লিখে রাখতে পারেন।

৪) স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস বজায় রাখুন
ভাবছেন, পরিবর্তনের সাথে খাবারে কী সম্পর্ক? ভেবে দেখুন, আপনি যখন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যান, স্ট্রেসে থাকেন- তখন আমরা বেশী বেশী কার্বোহাইড্রেটের দিকে হাত বাড়াই। রুটি, কেক, মাফিন এসব খাই। এগুলো মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের নিঃসরণ বাড়ায় এবং একটু স্ট্রেস কমায়। স্ট্রেস কমাতে এসব খাবার কিছুটা খেতে পারেন, কিন্তু অতিরিক্ত নয়। খাদ্যভ্যাস ঠিক রাখতেও লিখে রাখতে পারেন। এছাড়া অ্যালকোহল বা ধূমপানের দিকে বেশী ঝুঁকে যাচ্ছেন কিনা সেটার দিকেও মন দিন।

৫) ব্যায়াম করুন
নিজের দৈনিক রুটিন মেনে চলার মতই একটা কাজ হলো ব্যায়াম বজায় রাখা। আর যদি আপনার রুটিনে ব্যায়াম না থাকে, এখনই তা যোগ করুন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যায়াম, এমনকি হাঁটাহাঁটিও আপনাকে অনেকটা চাঙ্গা করে তুলতে পারে।

৬) সাহায্য নিন
একা একা কেউ জীবন পার করে দিতে পারে না। কোন না কোন পর্যায়ে গিয়ে অবশ্যই সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে। পরিবারের সদস্য অথবা কাছের মানুষ এই সাপোর্ট দিতে পারে আপনাকে। জীবনটাকে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইতে নিয়ে অনেকেই হিমশিম খান। তখন একটু বাচ্চাকে দেখাশোনা করতে, বা বাজার করে দিতে তারা আপনার সাহায্য করতেই পারেন।

এছাড়াও, পরিবর্তনের কারণে আপনি যে মানসিক চাপে আছেন এ ব্যাপারটা নিয়েও তাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। এতে আপনি একটু হালকা বোধ করবেন। কিন্তু তা বেশী করবেন না। সারাক্ষণ আপনার অভিযোগ শুনতে হলে তারাও বিরক্তি বোধ করবেন। বরং এই নিয়ে আলোচনা করতে পারেন যে কী করলে এই পরিবর্তন আপনার জন্য সহজ হবে।

৭) পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকগুলো দেখুন
আপনি ভাবছেন এই পরিবর্তনে আপনার কেবল ক্ষতিই হবে? না! বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এর ভালো কিছু দিক খুঁজে পাবেন আপনি। হয়ত আপনি নতুন কিছু শিখতে পারবেন, হয়ত আপনার নতুন কিছু মানুষের সাথে পরিচয় হবে। সর্বোপরি এই পরিবর্তন আপনাকে আরো উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। এসব দিক নিয়ে চিন্তা করলে তার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটা সহজ হবে।

৮) ক্ষতি মোকাবেলায় কাজ করুন
পরিবর্তন আসছে, তাতে আপনার কিছু সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে আগে থেকেই কাজ শুরু করতে পারেন আপনি। যেমন, সামনে কঠিন কোন কাজ আছে, তার আগে ডাক্তারকে দিয়ে একটা চেকআপ করে নিশ্চিত হলেন আপনি সুস্থ ও সবল এবং এই কাজ মোকাবেলা করা সহজ হবে।

৯) সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন
পরিবর্তনের সময়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে ঝুঁকে থাকেন। হয়তো পোষ্ট করে বন্ধুদেরকে জানাতে চান আপনার জীবনে কী হচ্ছে। কিন্তু এটা মনে রাখুন আপনি যা পোষ্ট করছেন তা কখনোই পুরোপুরি মুছে ফেলা যাবে না, তাই একদম পরিষ্কার মাথা নিয়ে আবেগ দূরে রেখে তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। আরেকটি খারাপ ব্যাপার হলো, পরিবর্তনের মাঝে স্ট্রেসে থাকেন অনেকে এবং এই স্ট্রেস নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় বসেন। তখন দেখেন যে অনেক বন্ধুরা মজা করছে, জীবন নিয়ে সুখে আছে। এতে আপনার মনে হতে পারে অন্যরা আমার চাইতে বেশী সুখী! এতে আপনি আরো বেশী স্ট্রেসে থাকবেন। সুতরাং এ সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এডিয়ে চলাই ভাল।

১০) নিজেকে একটু ফুসরত দিন
জীবনটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এমনটা মনে হতে পারে। নিজেকে বেশী চাপ দেবেন না। মনে রাখুন, আপনিও মানুষ। সবসময় একদম ১০০ ভাগ সক্রিয় থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। জীবনে একটু বিশ্রাম, একটু আনন্দের জায়গা রাখুন। দেখবেন, হাসির চাইতে ভাল ওষুধ আর নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *