বানিয়া লুকার কাস্টেল দুর্গ

ভ্রমণ: যদি আপনাকে পুরানো বা ঐতিহাসিক দুর্গ বা স্থান খুব টানে তাহলে আপনি একবার ঘুরে আসতে পারেন বানিয়া লুকার কাস্টেল দুর্গে। এটি বসনিয়া অবস্তিত। দিনটি আপনার ইতিহাস খুজতে খুজতেই পার হয়ে যাবে। তবে ওখানে যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে পেডিস্ট্রিয়ান স্ট্রিট ধরে। এমন নাম কেনো হলো, কেউ নিশ্চিত করতে বলতে পারেনি। নামের জন্যই কিনা জানি না, জায়গাটা পর্যটকদের ভীষণ প্রিয়। দু’পাশে সারিবদ্ধ নিও-রেনেসাঁ যুগের এক বা দ্বিতল বিপণী।

স্থানীয় ম্যাপ জোগার করে নিলে ম্যাপ ধরে ধরেই হাঁটলে পৌঁছে যেতে পারবেন কাস্টেল দুর্গে। ভরবাস নদীর তীরে। এই দুর্গ আর নদীর যুগলবন্দি শোভা বাড়িয়েছে এ নগরের। ভরবাস নদীর তীর ধরে দুর্গের পুরু দেয়াল কালের সাক্ষী হয়ে দণ্ডায়মান। এসব দেয়াল যেন নদীকে গল্প শোনাচ্ছে যুদ্ধের, বাণিজ্যের, বিজয়ের, অপমানের, কষ্টের, বিরহের কিংবা ভালোবাসার।

কাস্টেল দুর্গের ইতিহাস রহস্যঘেরা। কারো মতে, রোমানরাই নির্মাণ করেছে এ দুর্গ। কিন্তু দেয়ালের গায়ে ব্যবহৃত পাথর আর প্রযুক্তি বলে দেয়, এসব দেয়াল আরো পুরনো। তম্র যুগের বা হয়তো আরো আগের, প্রস্তর যুগের। একপ্রান্ত দিয়ে প্রাচীরের ওপরে উঠে যেতে পারেন। অথবা হেঁটে নদীর তীর বরাবর এসে দেয়ালের ওপরের অংশে হেলান দিয়ে বসে একটু জিরিয়ে নিতে পারেন।

পাশেই বয়ে চলছে ঠাণ্ডা একটি নদী। নদীর নাম ‘ভরবা’ মানে হলো উইলো। নদীর দিকে ঝুঁকে থাকা ক্রন্দনরত উইলো বৃক্ষের নামেই কেউ নাম রেখেছে নদীর। স্বচ্ছ সবুজ পানি। স্রোত আছে, তেমন তীব্র নয়। নদীটি বয়ে গেছে শহরের মাঝ বরাবর। নদীর অপর তীরে গড়ে উঠেছে নতুন শহর। ওদিকটা আবাসিক। কয়েকটি রেস্তোরাঁও আছে।

দুর্গ দেখে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তুর্কিরা পঞ্চদশ শতকে যখন এ নগর দখল করেছিল, এই দুর্গকে কী কাজে লাগিয়েছিল? বিশাল দুর্গ। মূল দরবার হল যেখানে ছিল, তা এখন খেলার মাঠ।

গ্রীষ্ম বা বর্ষায় এই দুর্গের এক রূপ দেখতে পাবেন। এই সময় এর চেহেরায় মেখে থাকে সবুজ রঙে। আবার শীতের সময় যদি এই দুর্গ দেখতে যান তাহলে দেখতে পাবেন শীতের সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *