ভূত তাড়াতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন!

আন্তর্জাতিক আর্টিকেল: স্টেশনটি পাঁচ দশক ধরে সবার কাছে ভুতুড়ে স্টেশন নামে পরিচিত। ভূত আতঙ্কে দীর্ঘদিন বন্ধও রাখা হয়েছিল স্টেশনটি। বছর দশেক ফের সেটি চালু করা হয়েছে। কিন্তু স্টেশনটি চালু হলেও ভূত আজও তাড়া করে ফিরছে যাত্রীদের। তাই এবার ভূত তাড়াতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার বেগুনকোদর রেলস্টেশনের।

জনসচেতনতা বাড়াতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভূতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমনকি স্টেশনে রাত জাগার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

প্রচলিত আছে, রাতে কোনো ট্রেন বেগুনকোদর স্টেশনের আপ বা ডাউন লাইনে ঢুকলেই সামনে থেকে একটি ছায়ামূর্তি দৌড়ে আসে। আবার মাঝরাতে নাকি চাদর মুড়ি দেওয়া কোনো ব্যক্তি গোটা স্টেশন চত্বরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। সেইসঙ্গে নাকি শোনা যায় নানা ধরনের আর্তনাদ।

ভূতের এই উপদ্রব থেকে মানুষকে রেহাই দিতে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন, বিজ্ঞান মঞ্চ, রেল ও পুলিশ একযোগে প্রচারণায় নেমেছে। ভূতের ভয় কাটাতে প্রয়োজনে ওই স্টেশনে রাতও কাটাবেন বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা।

পুরুলিয়ার জেলা প্রশাসক অলোকপ্রসাদ রায় বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, ওই স্টেশনকে ঘিরে নানা কুসংস্কার চলছে। ভূত বলে যে কিছু নেই, সেটা মানুষকে বোঝাতে এবং সবাইকে অভয় দিতেই বিজ্ঞান মঞ্চকে নিয়ে প্রচারের কাজ শুরু করেছি।’

স্থানীয় ও রেল সূত্রে জানা যায়, ১৯৬০ সাল নাগাদ এই বেগুনকোদর রেলস্টেশনটি তৈরি হয়। এর ছয় বছর পরে তৎকালীন স্টেশন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। কথিত আছে, সে সময় ওই স্টেশন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী নাকি খুন হয়েছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর পরেই নাকি রাতে ওই স্টেশনে ট্রেন ঢুকলেই লাইনের ওপর ছায়ামূর্তির আবির্ভাব হয়। আবার কেউ কেউ সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে স্টেশনে কাউকে ঘুরে বেড়াতেও দেখতে পান। শোনা যায় চিৎকার, আর্তনাদ কান্নার আওয়াজও।

দীর্ঘদিন ধরে শুধু ভূতের ভয়ে স্টেশনটি বন্ধ থাকার পর ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্টেশনটি ফের চালু হয়। রেলের একজন এজেন্ট শুধু দিনের বেলাতেই এখানে টিকেট বিক্রি করেন। দিনের বেলাতে শুধু ট্রেন থামে এই স্টেশনে। রাত হলে আর কোনো ট্রেন এই বেগুনকোদর স্টেশনে দাঁড়ায় না। এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় দুইশ যাত্রী যাতায়াত করেন। পাঁচটি লোকাল ট্রেন শুধু দিনের বেলাতেই এই বেগুনকোদর স্টেশনে স্টপেজ দেয়।

জানা গেছে, এই স্টেশনে বা প্ল্যাটফর্মে আলোর ব্যবস্থা নেই। ফলে সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকারে ঢেকে যায় বেগুনকোদর স্টেশন লেখা সাইনবোর্ডটি। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে স্টেশনটির চারদিকে।

এ বিষয়ে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বিজ্ঞান মঞ্চকে সঙ্গে নিয়ে বেগুনকোদর স্টেশন থেকে ভূতের আতঙ্ক কাটানোর জন্য লাগাতার প্রচারে নেমেছি। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই লাগাতারভাবে চলবে এই প্রচার কাজ।’

পুরুলিয়ের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজার সঞ্জয় মণ্ডল জানান, বেগুনকোদর স্টেশনে ভূতের ভয় দূর করতে রেলের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান মঞ্চের পুরুলিয়া শাখার সম্পাদক নয়ন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ভূতের ভয় দূর করতে আমরা বৃহস্পতিবার থেকে টানা প্রচারসহ প্রয়োজনে রাতে স্টেশনে থাকব। মানুষ যাতে ভূতের গুজবে ভয় না পান, সেটা দূর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *