জেলে যেতে পারতেন রোনালদো!

খেলাধুলা: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো প্রতিনিয়তই সন্তানদের সঙ্গে ছবি তুলে তা পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। কিন্তু এ রকম একটা ছবি পোস্ট করেই বিপাকে পড়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ তারকা! নতুন করে তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ তুলেছে স্প্যানিশ কর কর্তৃপক্ষ।

শুধু অভিযোগ তোলাই নয়, সন্তানদের সঙ্গে সেই ছবি পোস্ট করার দায়ে রোনালদো নাকি জেলেও যেতে পারতেন। রোনালদো নিজেই হাসতে হাসতে বলেছেন, সন্তানদের জন্য জেলখানার কয়েদি হতে পারতেন তিনি!

গত জুনে যমজ সন্তান ইভা এবং এবং মাতেও-এর বাবা হয়েছেন রোনালদো। গত ১২ নভেম্বর আবার তার বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজ জন্ম দিয়েছেন মেয়ে আলানা মার্টিনাকে। স্প্যানিশ কর কর্তৃপক্ষ রোনালদোর বিরুদ্ধে নতুন করে কর ফাঁকির অভিযোগ এনেছেন এই তিন সন্তানকে নিয়ে পোস্ট করা একটা ছবিকে কেন্দ্র করে।

স্পেনের পত্রিকা এল মুন্ডো জানিয়েছে, স্প্যানিশ কর এজেন্সির আর্থিক দুর্নীতি ইউনিটের প্রধান ক্যারিদাদ গোমেজ মরেলো মাদ্রিদের এক আদালতে রোনালদোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। ক্যারিদাদ গোমেজ মরেলো নাকি বিচারক মনিকা গোমেজ ফেরারের কাছে সরাসরিই বলেন, ’১৩ মিলিয়ন ইউরো কর না দেওয়ায় আমরা এক ব্যক্তিকে জেলে পুরতে পারি।’

বিচারক মনিকা গোমেজ অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ব্যক্তিগতভাবে শুনানির জন্য রোনালদোকে ডেকেছিলেন। গত ৭ ডিসেম্বর রাতে ফ্রান্সের প্যারিসে পঞ্চম বারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো। সেদিনই নাকি সকালের দিকে ব্যক্তিগত ওই শুনানির জন্য গিয়েছিলেন রোনালদো।

প্রাথমিক ওই শুনানিতে রোনালদো বিচারক মনিকা গোমেজ ফেরারকে নিশ্চিত করেন, আইনসঙ্গত ভাবেই সবকিছু করেছেন তিনি। অন্যায় কিছু করেননি। বিচারক তার কথা এক বাক্যে বিশ্বাস করেছেন, ব্যাপারটা এমন নয়। বরং অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধিন। কিন্তু তাৎক্ষণিক গ্রেতফারি পরোয়ানা এড়াতে পেরেছেন!

ওই শুনানির পরপরই রোনালদো তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে আরেকটি ছবি পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। তার নিচে ক্যাপশনে কৌতুক করে লেখেন, ‘এই সুন্দর সন্তানদের জন্য কারাবন্দী হতে পারতাম আমি! হা হা হা হা।’ সঙ্গে এই কথাটাও জুড়ে দেন, ‘আজকের সংবাদ শিরোনাম কি হবে?’

রোনালদোর এই পাল্টা টুইটের বিষয়ে বার্সেলোনা ভিত্তিক পত্রিকা এল পেরিওদিকো তুলেছে গুরুতর এক অভিযোগ। পত্রিকাটি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করে, এর মাধ্যমে রোনালদো সরকারের কেন্দ্রিয় সংস্থাটিকে মানুষের কাছে হাস্যকর বানানোর চেষ্টা করেছেন!

উল্লেখ্য, এর আগেও কর ফাঁকির অভিযোগে মামলা আছে রোনালদোর বিরুদ্ধে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে রোনালদো নাকি ১৪.৭ ইউরো কর ফাঁকি দিয়েছেন। যে মামলার মিমাংষা এখনো হয়নি। এরই মধ্যে আরেক অভিযোগ। তবে রোনালদোর দাবি, এবারের অভিযোগটি একেবারেই ভিত্তিহীন। তার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত অভিযোগটি মিথ্যা বলেই প্রমাণিত হবে।

এটা জেনে রাখা প্রয়েঅজন যে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে পারিবারিক যেসব ছবি পোস্ট করেন, তার প্রতিটা ছবির জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পান রোনালদো। আর এই খাত থেকে আয়ের উপরও কর দিতে হয়।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *