গুগল ম্যাপে এলিয়েনের অস্তিত্ব !

টেক আর্টিকেল: জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের উদ্ভাবিত ম্যাপ ব্যবহার করে উপকৃত হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের ছবি, নাম এবং সেখানে যাতায়াতের পথ দেখিয়ে দিয়ে অজানার ঝাঁপি উন্মুক্ত করে দিয়েছে গুগল ম্যাপ। পৃথিবীতে বর্তমান সব কিছুর ছবি স্থান পেয়েছে গুগল ম্যাপে। শুধু পৃথিবীই নয়, এই সৌরজগতের গ্রহ নক্ষত্রের পরিচয়ও সাধারণের জন্য তুলে ধরা হয়েছে সেখানে।

পৃথিবীর প্রতিটি স্থানের ছবি সংযোজনের সময় এমন কিছু দৃশ্য ধরা পড়েছে যা নিয়ে প্রায়ই নানা আলোচনার জন্ম হয়েছে। এসবের মধ্যে ইউএফও তো আছেই, কখনও কখনও এলিয়েনের ছবি ধরা পড়ে বলে একাধিকবার দাবি উঠেছে। অবশ্য সেসবের বিষয়ে গুগলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি।

দেখা গেছে, কোনো দৃশ্যের বিষয়ে বেশি আলোচনা বা সমালোচনা হলে তা সরিয়ে দিয়েছে গুগল। ফলে এলিয়েন বিশ্বাসীরা দৃশ্যগুলো নিয়ে নানা দাবি করলেও তা খুব একটা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেনি।

সম্প্রতি গুগল ম্যাপে থাকা কিছু ছবি নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম নিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ইউকে সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, গুগল ম্যাপে পৃথিবীর বেশ কিছু স্থানে থাকা কর্প সার্কেলের ছবি ধরা পড়েছে। সেগুলো এখনও বর্তমান আছে বলেই গুগল ছবিগুলো না দিয়ে থাকতে পারেনি।

কর্প সার্কেলের পেছনে এলিয়েন রয়েছে বলে একপক্ষ দাবি করে আসলেও বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলো কিন্তু তা প্রকাশ্যে মানতে রাজি নয়। বিশাল মাঠে কিংবা শস্য ক্ষেত্রে এক রাতের মধ্যে রাতারাতি কিভাবে নানা নকশা আঁকা সম্ভব হয়, তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বিজ্ঞানীরাও। কিন্তু তাদের মতে এগুলো এলিয়েন নয়, মানুষই করেছে।

গুগল ম্যাপে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু স্থানে কর্প সার্কেলের ছবি ধরা পড়েছে। নিউ ক্যাসল, কলোরাডো’এর মতো স্থানগুলোতে যেসব কর্প সার্কেলের দৃশ্য ধরা পড়েছে তা নিয়ে এরইমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

এমনিতেই যুক্তরাজ্যের নিউ ক্যাসল পর্বতাঞ্চল হওয়ায় বহু আগে থেকেই এই শহরকে ঘিরে এলিয়েন সম্পর্কিত নানা ঘটনা রয়েছে। এসবের মধ্যে অন্যতম কর্প সার্কেল! বহু আগে থেকেই বিশাল শস্য ক্ষেত্রে এমন অদ্ভূত ছবি দেখা গেছে। তবে ১৯৭০ সালের পর থেকে এই সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়।

এলিয়েন বিশ্বাসীদের দাবি, বিশাল শস্য ক্ষেতে যেসব নকশা আঁকা হয় তার অবশ্যই অর্থ রয়েছে। কিন্তু সেই সংকেতের অর্থ উদ্ধারের মতো ক্ষমতা আমাদের এখনও অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ক্ষেতের ফসল কেটে এসব বিশাল নকশা যেভাবে নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় তা কোনো মানুষের কেন, উন্নত যন্ত্র দিয়েও তৈরি করা সম্ভব নয়!

আবার একদল বিজ্ঞানী বলে থাকেন, কর্প সার্কেলের এসব নকশার পেছনে রয়েছে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় নানা তথ্য। অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ইউএফও এন্ড প্যারানর্মাল রিসার্চ সোসাইটির সম্মেলনে রসায়নে পিএইচডি প্রাপ্ত ড. হোরেস ড্র দাবি করেন, এসব নকশার মাধ্যমে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে চায়।

তিনি আরও দাবি করেন, তারা যেসব দৃশ্য তুলে ধরেছে তাতে মহাকাশে তাদের অবস্থান থেকে শুরু করে মানব জাতির ভবিষ্যত কর্তব্য সম্পর্কেও ধারণা থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে কর্প সার্কেল নিয়ে এত আলোচনার জন্ম হলেও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র মতো কোনো প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে আগ্রহ দেখায়নি। তাই কর্প সার্কেল নিয়ে শক্তিমান দেশগুলো নিশ্চুপ থাকলেও আলোচনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *