গার্ডিয়ানের বর্ষসেরা টেস্ট দলে সাকিব-মুশি

খেলাধুলা: মঙ্গলবার বছরের শেষ টেস্ট শুরু হয়ে গেছে। বক্সিং ডে টেস্ট খেলছে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে। তবে এই দুই ম্যাচের ফলাফল ছাড়াই ক্রিকেটপ্রেমীরা জানেন এ বছর টেস্টে কার পারফরম্যান্স কেমন ছিল। এর ভিত্তিতেই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের চোখে বছরের সেরা টেস্ট খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠন করেছে একাদশ। দারুণ পারফরম্যান্সে বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেটারদের সাথে এই একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার- বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহীম। দেখে আসা যাক একাদশের সদস্যদের-

এই একাদশে সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার, ৪জন। দুজন করে আছেন বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার। ইংল্যান্ডের মাত্র একজন আছেন এই বর্ষসেরা একাদশে-

১. ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া) : ওয়ার্নারের বছর শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ এক সেঞ্চুরি দিয়ে। অ্যাশেজে বছরের শেষ টেস্টেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত আরেকটি শতরানের ইনিংস খেললেন। মাঝের ম্যাচগুলোতে নিয়মিত সেঞ্চুরি করেছেন। হার থেকে দলকে বাঁচিয়েছেন। ৪৪.৮৮ গড়ে ৮০৮ রান নিয়ে তিনি আছেন এই একাদশে।

২. ডিন এলগার (দক্ষিণ আফ্রিকা) : ২০১২ সালে অভিষেক হওয়ার পর এই বছর শুরু হওয়ার আগে এলগারের সেঞ্চুরি ছিলো ৫টি। এবছরই তিনি খেলেছেন আরো ৫টি শতরানের ইনিংস। ৫৪.৮৫ গড়ে ১,০৯৭ রান করেছেন এলগার।

৩. চেতেশ্বর পূজারা (ভারত) : পূর্ণাঙ্গ টেস্ট খেলোয়াড় বলতে যা বোঝায় পূজারা তাই। এই ব্যাটসম্যান তার ধৈর্য্য ও অধ্যবসায়ের ফল পেয়েছেন ৬৭.০৫ গড়ে ১,১৪০ রান করে।

৪. স্টিভেন স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া) : গত তিন পঞ্জিকাবর্ষেই টেস্টে একহাজারের বেশি রান করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। এবছরও ব্যতিক্রম হয়নি। ৭০.৪৩ গড়ে করেছেন ১১২৭ রান।

৫. বিরাট কোহলি (ভারত) : অজি অধিনায়ক স্মিথ নাকি ভারত অধিনায়ক কোহলি সেরা তা নিয়ে একটা তর্ক আছে। তবে রান তোলায় কোন জুড়ি নেই এই ব্যাটসম্যানের। ৭৫.৬৪ গড়ে তিনি করেছেন ১০৫৯ রান। যার অর্ধেকেরও বেশি এসেছে সদ্য শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজে।

৬. সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) : বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ দিয়েই এসেছেন এই তালিকায়। ৪৭.৫ গড়ে ৬৬৫ রানের পাশাপাশি ২৯টি উইকেটও আছে তার। শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ে বিশাল ভূমিকা ছিল এই অল রাউন্ডারের। বছর শেষের আগে পেয়েছেন দলের অধিনায়কত্ব।

৭. মুশফিকুর রহীম (বাংলাদেশ) : লাল সবুজের দলের অধিনায়কত্ব হারালেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ভাস্বর ছিলেন মুশফিক। ৫৪.৭১ গড়ে ৭৬৬ রান করেছেন তিনি। ডিসমিসাল আছে ১৪টি।

৮. মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া) : ইনজুরির কারণে অ্যাশেজের আগে ৩ টেস্ট খেলেছেন। নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। অ্যাশেজে ফিরে এসে প্রথম তিন টেস্টেই পেয়েছেন ১৯ উইকেট। ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না বক্সিং ডে টেস্ট।

৯. নাথান লায়ন (অস্ট্রেলিয়া) : চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন লায়ন। এই অজি বোলারের কাছেই হেরে গিয়েছিল টাইগাররা। সারাবছর এমন বোলিং করে ২২.৯১ গড়ে উইকেট পেয়েছেন ৬০টি। একটি টেস্ট এখনও খেলছেন। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কত উইকেট নেন এই ডানহাতি অফস্পিনার।

১০. জেমস অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড) : যত বয়স বাড়ছে এই পেসারের ধার ততই বাড়ছে। এবছর মাত্র ১৬.৮৬ গড়ে পেয়েছেন ৫১ উইকেট। বছরের শেষ টেস্টে মাঠে নেমেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

১১. কাগিসো রাবাদা (দক্ষিণ আফ্রিকা) : ডেল স্টেইন একবছর ধরে নেই। মরনে মরকেল, ভারনন ফিল্যান্ডাররাও ছিলেন ইনজুরিতে। তবে এই তরুণ তুর্কি দারুণভাবে সামলেছেন প্রোটিয়াদের পেস আক্রমণ। ২০.৯৬ গড়ে পেয়েছেন ৫৪ উইকেট। একটি টেস্ট এখনও বাকি তারও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *