অনুপবাবু আর ভূত

আর্টিকেল (তন্ময় মুখার্জী): রাত দু’‌টো পঁয়ত্রিশ নাগাদ পুরনো আধভাঙা ফিলিপ্সের রেডিওটা আপনা থেকেই চালু হয়ে গেল। শ্যামল মিত্রর কণ্ঠ যে কী সুরেলা।

—‘‌ঘুম যখন আসছেই না, তখন অত কেরদানি মেরে পাশবালিশ জড়িয়ে লাভ কী ব্রাদার?’‌
শ্যামল মিত্র রেডিও থেকে জিজ্ঞেস করলেন। অনুপবাবু ঠাহর করতে পারছিলেন না ভূতটা শ্যামল মিত্রের না রেডিওর।

‘‌রেডিওদের মারা যাওয়ার ব্যাপার থাকে না ভাই।’‌ ফের। শ্যামল মিত্র। এ’বার ধড়মড়িয়ে উঠে বসলেন অনুপবাবু।
‘‌কোন গান শুনবে? ফিল্মের একটা দিয়েই শুরু করি?‌’‌ অনুপবাবু হ্যাঁ বা না বলার আগেই শুরু হয়ে গেল – – –
‘‌জীবন খাতার প্রতি পাতায়…’‌ ভয়টা কমে আসছিল। শ্যামল অন্তরার দিকে যেতেই অনুপবাবু পা বাড়ালেন রান্নাঘরের দিকে। এক কাপ কফির দরকার।
অমনি। গান গেল থেমে।

‘‌এ কী! চললেন কোথায়? বসুন। আর দুটো গাই।’‌
‘‌নাহ, এক কাপ কফি হলে বেশ হতো।’‌
‘‌কফিতে কী হবে? আমি তো ভূত!‌’‌
‘‌না সরি, ইয়ে, কফিটা আমার জন্য।’‌
‘‌বোঝো, কখনও শুনেছেন ভূতের গান ভূত না হয়েও কেউ শুনতে পাচ্ছে?’‌
‘‌আজ্ঞে?’‌
‘‌বসুন না। আরে নার্ভাস হবেন না। আপনি মরে যাননি। রাতে শোয়ার আগে রোজ নিউজচ্যানেল দেখে আর শুনে ঘুমোতে যান তো। তাই নিজের অজান্তেই নিজের ভিতরে একটা আস্ত লাশ ফেলে রীতিমত ভূত জেনারেট করে বসে আছেন। সেই ভূতের সঙ্গেই আমি দিব্যি কমিউনিকেট করতে পারছি। আরে বসুন। বসুন। আপনার কফি নয়, সঙ্গীতের প্রয়োজন। বৈঠিয়ে জনাব, বৈঠিয়ে। এবারে একটা ক্লাসিকাল ধরি, কেমন?’‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *