মেসির ছায়ায় ঢাকাই থাকলেন রোনালদো!

খেলাধুলা: বার্সেলোনার ৩-০ গোলের জয়ে লিওনেল মেসির একমাত্র গোলটি পেনাল্টি থেকে। মেসি নিজেও হয়তো নিজেকে বার্সার জয়ের একক নায়ক ভাববেন না। কিন্তু তুলনাটা যদি হয় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে, অনেক এগিয়েই থাকবেন মেসি। বলা যায়, শনিবারের মহাগুরুত্বপূর্ণ এল ক্লাসিকোতে প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির ছায়ায় ঢাকাই থাকলেন রোনালদো।

কদিন আগে পঞ্চম বারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের পর নিজেই নিজেকে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেব দাবি করেছেন। রোনালদোর সামনে শনিবার সুযোগ ছিল নিজের সেই দাবি প্রমাণের। সর্বকালের না হোক, অন্তত মেসির সঙ্গে তুলনায় নিজেকে সেরা প্রমাণের সুযোগ ছিল।

কিন্তু রোনালদো সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না। পারল না তার দল রিয়ালও। উল্টো মহাগুরুত্বপূর্ণ এল ক্লাসিকোতে হেরে লিগ শিরোপা দৌড় থেকে বলতে গেলে ছিটকেই পড়ল রিয়াল। কাগজে-কলমে হিসাব বলছে, এখনই নিশ্চিত করে কোনো কিছু বলার উপায় নেই। কারণ মাত্রই ১৭ রাউন্ডের খেলা শেষ। এখনো লিগের ২১ ম্যাচ বাকি। এক ম্যাচ কম খেলায় রিয়ালের হাতে আছে ২২ ম্যাচ।

কাজেই ১৪ পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচানোর সুযোগ রিয়ালের সামনে আছে! কিন্তু লা লিগার ইতিহাস স্পষ্ট করে বলছে, লিগের এই পর্যায়ে এসে ১৪ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়া দলের ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জয়ের নজির নেই।

জিতলেই পয়েন্টের ব্যবধানটা রিয়াল নামিয়ে আনতে পারত হাতের নাগালে। নিজেদের ঘরের মাঠে রিয়াল শুরুটাও করেছিল দারুণ। মেসি এবং বার্সেলোনাকে ছায়া বানিয়ে একের পর এক আক্রমণের ঢেউ তোলেন রোনালদো, বেনজেমারা। পেয়েছেন গোল করার সহজ সুযোগও।

কিন্তু বার্নাব্যুর সমর্থকদের হতাশ করেছেন রোনালদো-বেনজেমারা। তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন লিগে তাদের দুঃসময় চলার কথাটাই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অন্য টুর্নামেন্টে মাঠে নামলেই গোল পাচ্ছেন রোনালদো। কিন্তু লিগ ম্যাচ হলেই যেন কি হয়ে যায় ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোর!

সেই কি যেন হয়ে গেল শনিবার বার্নাব্যুতেও! ম্যাচের দুই মিনিটেই অবশ্য হেড করে বল বার্সেলোনার জালে পাঠিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, দুর্ভাগ্য তার দল রিয়ালের। গোলটা বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। রিপ্লেতে পরিস্কার, হেড করার আগে অফসাইডে ছিলেন রোনালদো।

এই হতাশা যেন দুর্ভাগ্যকেই টেনে আনে। ১০ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন গোল করার। ফর্মে থাকাকালীন সময়ে এ রকম সুযোগ পেলে হয়তো প্রতিপক্ষের জাল ছিঁড়ে ফেলতেন। কিন্তু শনিবার বলে পা-ই লাগাতে পারলেন না রোনালদো! সজোরে শট নিয়েছিলেন বাঁ-পায়ে।

কিন্তু বল পায়েই লাগাতে পারেননি। বল ফাঁকি দিয়ে চলে যায় তার দু-পায়ের মাঝখান দিয়ে! এরপরও একাধিক সুযোগ পেয়েছেন। কখনো বার্সেলোনার গোল রক্ষক তার শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন। কখনো বার্সার রক্ষণেই প্রতিহত। সব মিলে বার্নাব্যুর মহাগুরুত্বপূর্ণ এল ক্লাসিকোটা হয়ে থাকল ৩২ বছর বয়সী রোনালদোর চরম হতাশার স্বাক্ষী হয়ে।

অন্য দিকে প্রথমার্ধে মাঠে খুজেই পাওয়া যায়নি যাকে, সেই মেসি কেড়ে নিলেন আলো। বার্সার প্রথম গোলে অবশ্য মেসির অবদান নেই। তবে ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বার্সাকে এগিয়ে দেন ২-০ গোলে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে অ্যালেক্সিস ভিদালের করা দলের তৃতীয় গোলটিও বানিয়ে দিয়েছেন তিনিই।

রোনালদোর সঙ্গে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে তাই আরেকবার মেসিই জয়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *