সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

জাতীয় আর্টিকেল: আজ বৃহস্পতিবার; সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে রংপুর সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সাজ সাজ রব শহরজুড়ে। ভোট গ্রহণের জন্য সকল সরঞ্জামাদি পৌঁছে গেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে। আর নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য। পুলিশের পাশাপাশি থাকবে র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যও।এছাড়া পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে গেছেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা।

১৫ দিনের প্রচারণা শেষে, রংপুরের নির্বাচনী উত্তাপ এখন চরমে। চলছে প্রার্থী ও ভোটারদের শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। এখন অপেক্ষার পালা। রাত পেরুলেই ভোটারদের রায়ে নির্বাচিত হবেন ২শ’ ৩ দশমিক ছয় তিন বর্গ কিলোমিটারের রংপুর সিটির নতুন নগর পিতা।

সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয়বারের মত নগর পিতা হওয়ার দৌঁড়ে অংশ নিচ্ছেন ৭ জন মেয়র প্রার্থী। যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টিসহ ৬টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। এছাড়া একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২শ ১১ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৬৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর মোট ভোট কেন্দ্র ১শ ৯৩টি।এগুলোতে ১১শ’ ২২টি স্থায়ী ভোট কক্ষের পাশাপাশি ১৬৬টি অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে। এছাড়া ১০৮টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৯৩টি। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রে আমরা ইভিএম মেশিন ব্যবহার করবো। এবং তিনটি কেন্দ্র আমরা সিসি টিভির আওতায় নিয়ে এসেছি। আমরা আশা করছি সবার সহযোগিতায় আমরা চমৎকার নির্বাচন করতে পারবো।’

এদিকে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ৫ হাজারের অধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। যেখানে র‌্যাবের ৩৩টি দল ছাড়াও বিজিবির ২১ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১১জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্ব ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং আর্মড পুলিশের ২২ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন বাড়িয়ে ২৪ জন করে দায়িত্ব পালন করবেন।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, ‘আনসার, আর্মড পুলিশ, আমার জেলা পুলিশ এরা মাঠে থাকবে। এর বাইরে র‍্যাব, বিজিবির মোবাইল আছে। এর বাইরে আছে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। নিরাপত্তার যে ব্যবস্থা, আমি মনে করি তা পর্যাপ্তের চেয়ে পর্যাপ্ত।’

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর সিটি নির্বাচনে ভোটার ৩ লাখ ৯৪ হাজার নয়শো চুরানব্বই জন। যার মধ্যে এক লক্ষ ৯৬ হাজার তিনশো ৫৬ জন পুরুষ ভোটারের বিপরীতে নারী ভোটার রয়েছেন এক লক্ষ সাতানব্বই হাজার ৬শ’ ৩৮ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *